আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ

 

মো: সিরাজুল হক মুন্সী

আজ আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। এটি ঠিক যে,শুধু দিবস পালনের মাধ্যমে কোনো অনিষ্টই বন্ধ করা যাবেনা। কিন্ত বিভিন্ন দিবস থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আমরা সচেতনতা সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারি। আত্মহত্যার প্রবণতা তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই সবচেয়ে বেশী দেখা যায় কারণ এই শ্রেণীর আবেগ থাকে অনেক বেশী। আবেগ কিন্তু জীবনের জন্যে খুবই প্রয়োজন। আবেগ ছিলো বলেই এদেশের তরুণ প্রজন্ম ভাষা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে রাজধানীর রাজপথ রঞ্জিত করে রাষ্ট্রভাষা বাংলার মর্যাদা  ছিনিয়ে এনেছিলো। মহান মুক্তিযুদ্ধে ময়দানী লড়াইয়ে মূল ভূমিকা কিন্তু এদেশের তরুণরাই রেখেছিলো। দেশমাতৃকাকে ভালোবেসে স্বাধীনতার লাল সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছিলো। এটা কিন্তু আবেগ ছাড়া সম্ভব ছিলোনা। সকল গণ আন্দোলনে অথবা সেবামূলক কাজে এদেশের তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা ছিলো অগ্রগণ্য।

 

কিন্তু সেই তরুণ প্রজন্মের কেউ যখন আবেগে আপ্লুত হয়ে অথবা চরম হতাশায় আত্মহননের পথ বেছে নেয় তখন আসলেই গভীর পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন আছে- বৈকি। কেন এমনটা  হচ্ছে? এদেশের তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য কেন আশংকাজনক হারে এভাবে ভেঙ্গে পড়ছে? সমীক্ষায় দেখা যায়, গত কয়েক বছরে তরুণ প্রজন্মের মাঝে আত্মহত্যার হার আশংকাজনকভাবে বেড়েছে।  আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া এই এদেরকে অনেক ভালো কাজেই তো  লাগানো যেতো! আমরা বড়রা  কেন তাদের মধ্যে জীবনের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করতে পারলাম না? আমরা কেন সমাজ বিনির্মাণে এদের শক্তি, এদের সামর্থ্য নিয়োজিত করতে অক্ষম  হলাম ।

 

আর এই তরুণদের  কেউ যদি কোনোভাবে  অতি অল্প কিছুদিনের জন্যেও আমার সংস্পর্শ পেয়ে থাকে তাহলে তো নিজেকে খুব তুচ্ছ বলেই মনে হয়। যেমন ছাত্রী আশার ক্ষেত্রে খুব বেশী  মনে হয়েছে। এতো যে জীবনের কথা, এত যে অনুপ্রেরণা কেন কোন্যভাবেই আশার উপর কাজ করলোনা? আমি ভাবছি। আপনিও ভাবুন। একটু ভূমিকা রাখুন।জীবনকে ভালোবাসার জন্য তরুণদের অনুপ্রাণিত করুন। তাদের আবেগ অনুভূতি যেন বৃথা হয়ে না যায়। শুধু দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণ প্রজন্মের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেই।

 

 

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক

সরকারী হরগঙ্গা কলেজ মুন্সীগঞ্জ

 

 

Be the first to comment on "আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস আজ"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*