শিরোনাম

এক্সক্লুসিভ: মুক্তারপুর সেতু থেকে পঞ্চবটি এ্যাপ্রোচ রুটের আট কিলোমিটার পথ প্রশস্থ করন প্রক্রিয়া চলছে

 

হতে পারে তিন লাইনের সড়কের সাথে উড়াল সেতু, কাল থেকে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু: সেতু কর্তৃপক্ষ

জসীম উদ্দীন দেওয়ান : বাংলাদেশ সৃষ্টি লগ্ন থেকেই ঢাকার খুব কাছের জেলা মুন্সীগঞ্জবাসীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে মোকাবেলা করতে হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থাটি নিয়ে। স্বাধীনতার পর থেকে সামগ্রিকভাবে এই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির তুলনায় মারাত্মকভাবে অবহেলিত হয়ে আছে মুন্সীগঞ্জ জেলার যোগাযোগ উন্নয়ন এবং ২৬ কিলোমিটার দুরত্বের রাজধানী শহর ঢাকা ও ছয় কিলোমিটার দুরে থাকা নারায়নগঞ্জ জেলার সাথে এই জেলাবাসীর ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা।

 

দেশের যে কোন জেলায় ২৬ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে এক ঘন্টা সময় দিলেই হেসে খেলে পৌঁছানো সম্ভব। আর ছয় কিলোমিটারের পথে ২০ মিনিট সময় খুব বেশি বলে মনে হয়। মুন্সীগঞ্জবাসীদের জন্য ঢাকা পৌঁছাতে তিন থেকে চার ঘন্টা। আর নারায়নগঞ্জ যেতে দুই থেকে তিন ঘন্টার কমে পৌঁছানোর কথাটি ভাবাই অমূলক। দৈনন্দিন কাজে মুন্সীগঞ্জ সদর ও টংগিবাড়ী উপজেলার একাংশের প্রায় চার লাখ মানুষের ঢাকা ও নারায়নগঞ্জের সাথে যোগাযোগের এক মাত্র সড়ক পথ মুক্তারপুরের এই পথটি। মুন্সীগঞ্জ- ঢাকার ২৬ কিলোমিটার দুরত্বের সড়কের আট কিলোমিটার সড়ক বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রনে।

 

আর বাকি পথটি দেখবাল করে সড়ক ও জনপথ। সেতু কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রনে থাকা মুক্তারপুর সেতু হতে পঞ্চবটি পর্যন্ত আট কিলোমিটারের সড়কটি একেতো সরু, তার ওপর কয়েকটি স্থানে ভাঙ্গা ও বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার ফলে বর্তমানে জীবন ও যানবাহনের ঝুঁকি নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের কয়েক গুন সময় ব্যায় করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয় এখানকার মানুষদের। যাত্রী নিয়ে গাড়ি উল্টে পড়ার মতো ঘটনা প্রতিদিন কয়েকটি ঘটে এই পথে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগ স্বিকার করেই আসা যাওয়া করে এখানকার অসহায় যাত্রীরা।

জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে প্রতিদিন ছোট বড় প্রায় পাঁচ হাজার যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করে। আর পথের দুই পাশে থাকা বিভিন্ন কারখানাসহ পাঁচটি সিমেন্ট কারখানার মালামাল সরবরাহের কাজে চলে কমপক্ষে দুই হাজার ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান। সেতু কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রনে থাকা আট কিলোমিটার পথ ২০১২ সালে সেনাবাহিনী ১৬ ইসিবির সহযোগিতায় পূন:নির্মাণ হলে এতো দিন যাত্রীরা পঞ্চবটি পর্যন্ত আরামদায়ক যাত্রা করতে পারলেও ,পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না রেখে রাস্তার দুই পাশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো মাটি ফেলে তাদের সীমানা ভরাট ও উঁচু করে ফেলায় বৃষ্টিতে পানি জমে রাস্তা খানা খন্দ হয়ে যায় এবং দেখা দেয় জলাবদ্ধতা।

 

এতো গুরুত্বপূর্ণ এই পথের বেহাল দশার চিত্র বদলানোর কোন পরিকল্পনা আছে কিনা? জানতে চাইলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাজন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, জন দুর্ভোগ কমাতে মুক্তারপুর সেতু হতে পঞ্চবটি পর্যন্ত আট কিলোমিটার সড়কটি চার লাইনে উন্নত করনের প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে সরকার। এই লক্ষে সেতু বিভাগ ইতোমধ্যে বুয়েটকে সম্ভাব্য সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দিলে , বুয়েটও তাদের পর্যালোচনা প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে জানান তিনি। তবে সড়কটির দুই পাশের কয়েকটি স্কুল,মসজিদ ও বহুতল ভবন রক্ষার্থে চার লাইনের পরিবর্তে বুয়েটের প্রতিবেদনে এলিভেটেট পদ্বতি গ্রহনের সুপারিশ করা হয়েছে।

 

অর্থাৎ সেটা হতে পারে তিন লাইনের সড়কের সাথে ফ্লাই ওভার বা উড়ন্ত সেতু। তবে কবে নাগাদ এই কাজের শুভ সূচনা হতে পারে? জানতে চাইলে রাজন চন্দ্র বলেন, এই প্রকল্পটি একনেকের বৈঠকে অনুমোদন হবে, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী বছর নতুন আকারের এই সড়কটির কাজ ধরার সম্ভাবনা রয়েছে। আর বর্তমানে সড়কের খানা ,খন্দ ও জলাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যে কোন ব্যবস্থা নেবার কথা জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা জানান, আগামী কাল ( রবিবার) থেকে হেরিং বন্ড পদ্ধতির মাধ্যমে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হবে। এই ব্যাপারে তারা ঢাকাস্থ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আলিফ এন্টার প্রাইজের সাথে কথা চুরান্ত করেছে বলেও জানান রাজন চন্দ্র।

—-মুন্সীগঞ্জ২৪

Be the first to comment on "এক্সক্লুসিভ: মুক্তারপুর সেতু থেকে পঞ্চবটি এ্যাপ্রোচ রুটের আট কিলোমিটার পথ প্রশস্থ করন প্রক্রিয়া চলছে"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*