শিরোনাম

অপ্রতিরোধ্য ক্রোয়েশিয়ার সামনে আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ড

দ্বিতীয় সেমি ফাইনাল

ক্রীড়া ডেস্ক : ক্রোয়েশিয়ার সোনালী প্রজন্মের একঝাঁক ফুটবলার রাশিয়া বিশ্বকাপের শুরু থেকে ঝড় তুলেছেন। এখন পর্যন্ত কোন প্রতিপক্ষই হারাতে পারেনি তাদের। বলতে গেলে দুর্দান্ত গতিতে অভিষ্ট লক্ষ্য অর্জেনের পথে এগোচ্ছে দলটি। তবে তারণ্যনির্ভর দলটিকে আজ ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে পরাজিত করতে আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ড। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলটি বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১২টায় মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে নামবে সেই লক্ষ্যে। তবে অপ্রতিরোধ্য ক্রোয়েটরা সেটা কোনভাবেই হতে দিতে চায় না।

৫২ বছর আগে বিশ্বকাপ মঞ্চের ফাইনালে উঠেছিল ইংল্যান্ড। সবাইকে অবাক করে সেবারই শিরোপা ঘরে তুলেছিল দলটি। এরপর অবশ্য ইংলিশদের এ টুর্নামেন্টে সেরা সাফল্য একবার সেমিফাইনালে খেলা। অন্যদিকে ১৯৯১ সালে যুগোস্লোভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর ছয়টি বিশ্বকাপের পাঁচটিতেই খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সালে বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের অভিষেকেই শেষ চারে পা রেখেছিল তারা। ঐ আসরের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের কাছে সেমি-ফাইনালে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলায় জয় পায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। এটাই দেশটির সেরা পারফরম্যান্স। তবে অতীত নিয়ে আজ মোটেই ভাবতে চাইছে না দল দুটি। তাদের একটায় চিন্তা জয়।

গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনালে উঠে আসার পথে দুর্দান্ত দাপট দেখিয়েছে ক্রোয়েশিয়া। ইভান রাকিতিচ, মারিও মানজুকিচ, ইভান পেরিসিচরা আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। এমন একটা ম্যাচ খেলার আগে দারুণ আত্মবিশ্বাসী বিস্ময় জাগানিয়া দেশটি। ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ অবশ্য প্রতিপক্ষের গোল মেশিন হ্যারি কেইনকে নিয়ে ভাবছেন। যিনি এরইমধ্যে ৬ গোল করে রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবলে গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। তবে দালিচ মনে করেন তাকেও আটকানো যাবে। ‘এটা ঠিক হ্যারি কেইন দুর্দান্ত খেলছে। ওকে আটকানো কঠিন। কিন্তু আমার দলের সেন্টারব্যাকরা এর আগে লিওনেল মেসিকে আটকে দিয়েছে। এমন কী ডেনমার্কের ক্রিশ্চিয়ান এরিকেসেনকেও ভয়ঙ্কর হতে দেয়নি। আশা করছি এবার কেইনকেও আটকে দেবো আমরা।’

প্রতিপক্ষের ভাবনার সঙ্গে নিজেদের ওপরও পুরো আস্থা আছে ক্রোয়াটদের। তারা আশা করছেন, বিশ্বকাব এবার আর স্বপ্নভঙ্গ হবে না। দল ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পেয়ে যাবে ফাইনালের টিকিট।

এদিকে ইংল্যান্ডও শিরোপা নিয়ে ভাবছে। দলটির কোচ গ্যারেথ সাউথগেট জানিয়ে রাখলেন, ‘এই বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি ইতিহাস গড়া হয়ে গেছে। ১০ বছরে প্রথমবার নকআউটের বাধা পেরিয়েছি আমরা। পেনাল্টিতে প্রথমবার বিশ্বকাপে জয় এসেছে। ছেলেরা প্রাণভরে উপভোগ করছে। আমি এটাই চাই। নিজেদের সেরাটা দিয়ে এভাবেই এগিয়ে যাও। সাফল্য আসবেই।’

ফাইনালে উঠতে আজ ইংল্যান্ড তাকিয়ে থাকবে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের ওপর। এখন পর্যন্ত ছয় গোল করে টুর্নামেন্টে গোলদাতাদের তালিকায় সবার উপরে রয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের হয়ে তার চেয়ে বেশি গোল আছে শুধু ১০ গোল করা গ্যারি লিনেকারের। তবে এক জায়গায় পূর্বসুরিকে ঠিকই স্পর্শ করেছেন ইংলিশ অধিনায়ক। বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ছয় গোলের রেকর্ড ছিল সাবেক স্ট্রাইকার লিনেকারের। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়েন তিনি। ৩২ বছর পর কেইনের সামনে এখন রেকর্ডটা এককভাবে নিজের করে নেওয়ার হাতছানি।

শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচের টিকিট কাটতে আজ ক্রোয়েশিয়া চেয়ে থাকবে লুকা মদ্রিচের উপর। এখন পর্যন্ত দলটির জয়ে তিনিই রেখেছেন সবচেয়ে অবদান। করেছেন ২টি গোল। সতীর্থের দিয়ে করিয়েছেন একাধিক গোল।

ক্রোয়েশিয়ার মতো ইংল্যান্ডের দলটাও তারুন্যে ভরপুর। হ্যারি কেইনের সঙ্গে হ্যারি মাগুইরি, ডেলে আলি, রাহিম স্টার্লিং আর গোল পোস্টের নীচে প্রাচীর হয়ে আছেন জর্ডান পিকফোর্ড। আবার হেড টু হেড-ও তাদের সাহস দিচ্ছে। দুই দলের দেখা হয়েছে ৭ বার। এরমধ্যে ৪বার জিতেছে থ্রি লায়ন্সরা। দুইবার ক্রোয়েশিয়া। আরেকটি ম্যাচ ড্র!

তবে এটাও ঠিক রাশিয়া বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত হল ক্রোয়েশিয়া। হারতেই ভুলে গেছে মদ্রিচরা। এই ভুলে যাওয়াটা ধরে রাখতে চায় আরো দুই ম্যাচ। ১৯৯৮-এর সাফল্য শুনে বড় হয়েছে ক্রোয়েশিয়ার এই প্রজন্ম। এবার সময় নতুন ইতিহাস লেখার। সেটা এবার করে দেখাতে চাইছে দলটি। এদিকে হ্যারি কেইনরাও চাইছেন উত্তরসুরিতে পথে হাঁটতে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্য পূরণে কারা আজ এগিয়ে যাবে, তা হয়তো বলবে সময়ই।

Be the first to comment on "অপ্রতিরোধ্য ক্রোয়েশিয়ার সামনে আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ড"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*